দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালা......দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া
ককল্যাসের আশা ছেড়ে একটু এগিয়েছি, চোখ আটকে গেল পথের ধারে। এই যে সব অমূল্য
সম্পদ পড়ে ছিল, এদের নিয়ে কোনও গবেষণা হয়না, হলেও আমি তার খবর জানিনা। পথের ধারেই
এদের পাওয়া যায়। গভীর জঙ্গলে, বিশেষত পাহাড়ি জঙ্গলে যতদূর যেতে পেরেছি, আমি অন্তত
দেখিনি এদের। একবার ভাবুন তো, তুলে এনে বাহারি টবে লাগিয়ে একটু পরিচর্যা করলে কী
দাঁড়াবে এর চেহারা? কয়েক পর্ব আগেই লিখেছি, তাজ হোটেলে একটা সেমিনার অ্যাটেন্ড
করতে গিয়ে কেয়ারি করা ল্যানটানা দেখে আর চোখ ফেরাতে পারিনা। হদ্দ জঙলি ফুল, তাও
বিদেশ থেকে অবাঞ্ছিত, তার আজ পাঁচতারায় ঢুকে কতটা মর্যাদা বৃদ্ধি পেল। রূপও কত
খোলতাই হলো।
এই ফুলটা প্রথমে পুরো গাছটা, পরে ক্লোজ আপ দেখাব। ভারত সরকার চার ধাম যাত্রা
সহজতর করার জন্য সিক্স লেন রাস্তা বানাচ্ছে। কিছুদিন পরে এদের অধিকাংশই বিলুপ্ত
হয়ে যাবে। দেশের মানুষ নির্বিচারে গাছ কাটছে। কেবল পাতা পড়ছে, ঝাড়ু লাগাতে কষ্ট
বলে প্রতিবেশিদের চাপে গাছ কেটে ফেলতে হচ্ছে বলে আমার কাছে কান্নাকাটি করে
মেসেঞ্জার বা ই-মেল আসে। আমি বলি, প্রতিরোধ করো, হাতে লাঠি নাও, মুখে খিস্তির বান
ছোটাও, একটু ছোটলোক হও। ইতরদের সঙ্গে ভদ্রাচরণ করো কেন? কিন্তু সরকার কে আপনি কী
বলবেন? কেদারে নাকি লেসার শো শুরু হয়েছে বা হবে। কমার্শিয়ালাইজেশন অফ রিলিজিয়ন।
পথের ধারের এই সুন্দরীদের বলি দিয়ে ছয় লেনের রাস্তা হবে। ছেলেবেলায় গুরুজনদের মুখে
শুনেছিলাম তীর্থ মানেই দুর্গম। যে স্থানে সহজে যাওয়া যায়, সেখানে তীর্থ হতে
পারেনা। কষ্ট না করিলে নো মিলিং অফ কেষ্ট। এত সুলভে ‘ভগওয়ান’ দর্শন হোগা? আগের বার
দশ হাজার মরেছে, এবার এক লাখ যাক। শুধু দুঃখ এই, যারা ড্যাম বানিয়েছিল, তারা
মরেনি। যারা ‘ভগওয়ান’ দেখতে গেছিল, মরেছে তারাই।
আমরা পোথিবাসা তে যেখানে উঠেছি, সেই হোটেল বা রিসর্টে ঢোকবার মুখেই দুধারে টবে
দুটো গাছ। হাত দিয়েই বুঝলাম জঙলি। কিন্তু ফুলের কী রঙ, আহা। কী দুর্ভাগ্য আমার যে
ছবি তুলে আনার কথা ভেবেও পরে ভুলে গেছি। হোটেল মালিক বা ম্যানেজারকে জিজ্ঞেস করে
জানলাম, তুলেই আনা, তবে কোথা থেকে, তিনিও জানেননা। যাই হোক ওপরের ফুলটা বড় করে দেখুন।
চলুন পাখি দেখা হোক এবার। এর পর যাকে পেলাম, তার নাম ‘চেস্টনাট বেলিড রক
থ্রাশ’। এত সব মাইগ্র্যান্টদের মধ্যে ইনি স্বদেশি, অর্থাৎ স্থানীয় পাখি, কোথাও
থেকে আসেননি, ফিরে যাবেনও না কোথাও। আর একটা কথা, আপনারা যাঁরা নতুন পাখিবাজি শুরু
করেছেন, এই পাখি ও এর কয়েকটি কাজিন ব্রাদার, খোলা মগডালে বসেন, যাকে আমরা বলি
‘ওপেন পার্চ’। প্রথম প্রথম এদের ছবি তোলায় বেশ মজা, ফাঁকায় ফাঁকায়।
এর পর একটা ওয়ার্বলার দেখাই, এর নাম ব্লাইদস লীফ ওয়ার্বলার। আপনাদের মধ্যে কেউ
যদি পাখিবাজিতে আগ্রহী হয়ে থাকেন, ওয়ার্বলার আমাদের দেশে রয়েছে কমবেশি ১০৩ রকম।
আমাদের চিরপরিচিত টুনটুনি এক ধরণের ওয়ার্বলার। বেশ কিছু ওয়ার্বলার আইডেন্টফাই করতে
বড় বড় বার্ডারদের কালঘাম ছুটে যায়। কারণ এই ১০৩ এর অনেকেই খুব কাছাকাছি দেখতে। তবে
কয়েকজনকে ধরা খুব সহজ, যেমন এই ব্লাইদস লীফ ওয়ার্বলার। এদের ঠোঁটের রঙ হয় কমলা। আর
কোনও ওয়ার্বলারের কমলা ঠোঁট হয়না। আর একটা মজার কথা বলি, আমার এই ভুতুড়ে ক্যামেরা
নিয়ে। কিছু পাখির ছবি আমার ক্যামেরা নিতেই চায়না, আগে বলেছি খেয়াল করবেন। আমি
বিভিন্ন এক্সপোজার ট্রাই করেছি এই পাখিটার ওপর। সব সময়েই ওভার এক্সপোজড। আজ
পর্যন্ত অগুন্তি ছবি নিয়েছি ব্লাইদস লীফ ওয়ার্বলারের। সবই ওভার এক্সপোজড। জানিনা
বিজ্ঞান টা কী।
চোপতাতে আর এক আশ্চর্য রকম সুন্দর দৃশ্য হলো এর গাছ। এখন তুঙ্গনাথে বরফ থাকলেও
অফিশিয়ালি গরম পড়েছে। তাই বেশ কিছু গাছের পাতা টুকটুকে লাল হয়ে গেছে। আগের
ওয়ার্বলারের ছবিতেও দেখুন পাতাগুলো লালচে হতে শুরু করেছে। এবার দেখুন টুকটুকে লাল
পাতা। চারদিকে এমন সব গাছ। এমনি তে রডোডেন্ড্রন ফোটার সময় এখন। তাই ফুলে ফুলেও লাল
কিছুটা। কিন্তু সিকিমের মতো এত রডোডেনদ্রন নেই এখানে। তা পুষিয়ে দিয়েছে এই পাতা।
কত রকমের গাছের পাতা যে লাল হয়, তা বলে বোঝানো যাবেনা।
আর সবচেয়ে বড় বড় ঝাঁকড়া গাছগুলো আখরোটের, তা জানলাম। আমি কুমায়ুনেও আখরোটের গাছ
দেখেছি, তবে তা এই সময়ে নয়। এখন হয়ত লাল হয়। কুমায়ুনে এক দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির
ড্রাইভার আমাকে আখরোট পেড়ে খাওয়ালেনও। কিন্তু এটা বেশ অদ্ভুত, এখানে, আখরোট, আপেল,
কমলা, সবই হয়। কিন্তু কাশ্মিরের মত কোথাও বিক্রি হতে দেখিনি। কুমায়ুনে আমাদের
গাড়ির ড্রাইভারের কাছে একটা বাচ্চা ছেলে থলিতে করে এনে আখরোট বেচার চেষ্টা করছিল।
বেশ কিছুক্ষণ দরাদরি করে দামে পোষালনা বলে ফিরে গেল। তবে রাস্তায় বা বাজারে দেখিনি
কোথাও। কী করে এরা আখরোট, আপেল টাপেল দিয়ে?
আর খানিক এগোতেই তুষারশৃঙ্গ একেবারে হাতের কাছে। ওদিকেও লাল পাতার গাছ। কিন্তু
নরমাল লেন্স নেই বলে পুরো দৃশ্যটা দেখাতে পারলাম না। হতচ্ছাড়া মোবাইলটাই বা কোথায়
ছিল?
(চলবে)







সুন্দর।
ReplyDeleteধন্যবাদ।
ReplyDeleteচোপতা থেকে তুঙ্গনাথ যাওয়ার রাস্তার সৌন্দর্য স্বর্গের কাছাকাছি
ReplyDeleteআমি যেটুকু গেলাম, তাও ওই রকমই।
Deleteঅসাধারণ লেখা আর ছবি।ফুলগুলি কে নতুন করে আবার দেখছি।ভীষণ সুন্দর।
ReplyDeleteহ্যাঁ, চেনা জিনিস ফিরে দেখা।
Deleteআহা, কী সব ছবি! মন ভরে গেল।
ReplyDeleteথ্যাঙ্কিউ।
Deleteবেগুনি ফুলটা চমৎকার দেখতে
ReplyDeleteএমন আরও কত যে আছে। সব জায়গায় গাড়ি থামানোও যায়না তো। ইচ্ছে হয় সব ছবি তুলে আনি।
Deleteএই ফুলটা কিন্তু আসলে নীল
Deleteকম্পিউটারে ঠিকই দেখায়, ফোনে কী করে যেন বেগুনি হয়ে গেল।
হ্যাঁ ফোনেও দেখি রং পাল্টে যাচ্ছে---খুবই বিরক্ত লাগে
Deleteঅপূর্ব অপূর্ব !!! ফুল পাখি সঅঅঅঅব।
ReplyDeleteথ্যাঙ্কিউ।
Deleteপাহাড়ী পথের ধারে অযত্নে ফুটে থাকা ফুলগুলো নীল হলেও সুন্দর দেখতে লাগবে, বেগুনি হলেও যথার্থই সুন্দর সন্দেহ নেই। পাখীর ছবিগুলো মনেহচ্ছে সামনে দাঁড়িয়ে দেখছি। লেখার কোনো জবাব নেই।
ReplyDeleteথ্যাঙ্ক ইউ দাদা।
Delete