Thursday, 26 April 2018

পোথি পথিকরা - ১১





আরও কিছু সারিগ্রাম


(যাঁরা নতুন ব্লগে লেখা পড়ছেন, ছবিগুলোকে ক্লিক করলেই বড় করে দেখা যাবে)

সারিগাঁওতে মূল রাস্তা কিন্তু একটিই। তাই ঘুরে বেড়ানো তেমন ভাবে সম্ভব না। যদি কেউ ওপরে না ওঠেন, মানে দেওরিয়াতাল না যান বা অন্য কোনও পাহাড়ি পথ বেয়ে না ওঠেন বা না নামেন। তবে দিন দুই ভাল লাগবে সারিগ্রাম, বড়জোর তিন। কিন্তু তার মধ্যে আপনাকে শুষে নিতে হবে প্রকৃতির নানা সম্পদ। এখানে যা আছে, তা অন্যত্রও থাকতে পারে, তবে এমন ভাবে নয়।

ধরা যাক এই ফুলটি, পাহাড়ের সর্বত্রই একে দেখা যায়, ইতি উতি ঘাসপাতার মাঝখান থেকে উঁকি মারে। কিন্তু এই ভাবে ঘন ঝাড় হয়ে পাহাড়ের গায়ে ফুটে থাকতে আমি অন্তত কোথাও দেখিনি। দেখাটা অসম্ভব তা বলছিনা, আমি দেখিনি, এই পর্যন্তই। নীচে যে ছবি দিচ্ছি, তা বিশাল ঝাড়ের খণ্ডিত অংশের চিত্রমাত্র। পুরো ঝাড়টা অনেক অনেক বড়।



এই আর একটি ফুল বা ফুলের মতই কিছু। একে কিন্তু আমাদের বাংলার পর্বতাঞ্চলেও দেখেছি দেওয়ালের গায়ে ফুটে থাকতে। এই উদ্ভিদ এমনই আগাছা, যা মাটিতে নয়, দেওয়ালের গায়ে জন্মায়। তবে অন্যত্র যা দেখেছি, তা শুকনো, রুগ্ন, দুর্বল কিছু শ্যাওলা জাতীয় আগাছা। তা দেখে ছবি তোলবার সাধ হয়নি কখনও। এখানে তার রূপের বাহার দেখে প্রথমেই আনছি পুরো ঝাড়টি -



ও পরে খণ্ডিত অংশ দেখাই খানিক।



এবার সামনে আসছে ‘অ্যাংরি বার্ড’। পাহাড় মানেই কিছু ‘টিট’ গোত্রের পাখি। আমাদের বাংলা ও সিকিমে, যত্র তত্র যেমন ‘গ্রীন ব্যাকড টিট’ দেখা যায়, ভারতের প্রায় তিন চতুর্থাংশে যেমন ‘সিনেরাস টিট’ দেখা যায়, এই কুমায়ুন গাঢ়ওয়ালে তেমনই ব্ল্যাক থ্রোটেড টিট আর ‘ব্ল্যাক লোরড টিট’এর ছড়াছড়ি। সারিগ্রামে দেখি তারা চড়াইয়ের মত ঘুরে বেড়ায়। পাখিদের ছবির সঙ্গে এর ছবি আবার আসবে। কিন্তু এখন দেখুন, কেন তাকে ‘অ্যাংরি বার্ড’ নাম দিয়েছি আমি।





সারিগাঁওতে ঘর গেরস্থালির মাঝে মাঝেই ছোট ছোট চাষের ক্ষেত, ফলানো হয় ধান ও যব। সবুজ লকলকে গাছগুলোকে দেখলে আমাদেরই লোভ হয়, পাখির তো হবেই।



তার অপেক্ষা করে কবে এ গাছ ফসলে নুয়ে পড়বে। তখন তারা নেমে আসবে ঝাঁকে ঝাঁকে।



শুধু কি শস্যদানা? এখানে গাছে ফলে থাকে ‘লাইম’ বা মিষ্টি লেবু।



আর থাকে টুসটুসে কমলা। তবে তা খেতে কেমন তা আমি বলতে পারিনে।



এখানে রডোডেনড্রন ফুলের মধু খেতেও জুটে যায় অনেক পাখি।



আর একটি আগাছা দেখিয়ে আজকের পর্বে ইতি টানি। এও এক আগাছার ফুল, যাকে সব পাহাড়েই দেখা যায় পথের ধারে ফুটে থাকতে, তবে এমন বিপুল সংখ্যায় নয়।



আমরা পরেরদিন দেখব সারিগাঁওয়ের পাখিদের আরও ভাল করে।

(চলবে)




29 comments:

  1. এই পর্বে লেখা যেমন একটু কম হয়েছে, অনবদ্য পাখীর দল, শষ্যের ক্ষেত, আর বনফুলেরা তাদের উপস্থিতিতে সেই ঘাটতি পুষিয়ে দিয়েছে। আরও একটা দিন সারিগ্ৰামের পর্যটন করতে পারবে পাঠক।

    ReplyDelete
  2. দাদা, ছবি বেশি থাকলে, লেখা একটু কমই দিই। ব্যালান্স করি আর কী।

    ReplyDelete
  3. বাহ! এই পর্বে লেখা এট্টু কম হল। তবে ছবিতে পুষিয়ে গেছে। :)

    ReplyDelete
    Replies
    1. ওই ব্যালান্স করলাম একটু।

      Delete
  4. বাহ! এই পর্বে লেখা এট্টু কম হল। তবে ছবিতে পুষিয়ে গেছে। :)

    ReplyDelete
  5. Replies
    1. কেন বরুণ চৌধুরির নাম দেখাচ্ছেনা? অদ্ভুত।

      Delete
  6. অনবদ্য সব ছবি, ঐ দেখেই মন ভরে গেলো

    ReplyDelete
  7. Sotty darun dada.opurbo lekha chobi ar blog settingtao khub valo hoyeche

    ReplyDelete
  8. nice pictures of flowers and birds. waiting eagerly for next episode.

    ReplyDelete
  9. ফুলের ছবিগুলো অনবদ্য ❤❤❤ অ্যাংরি বার্ড নামকরণ যথাযথ হয়েছে দাদা ������

    ReplyDelete
  10. ফুলের ছবিগুলো অনবদ্য ❤❤❤ অ্যাংরি বার্ড নামকরণ যথাযথ হয়েছে দাদা 👌👌👌

    ReplyDelete
  11. ebar apnar pakhir theke phules chhobi maat kore diyechhe.....khondito lal phuler chhobi ta to background blurring er example kore deoa jae... chokh juriechhe er ageyo to onekbaar, mon o juriechhe agey kintu ebar shudhu chhobigulo aar sather swalpo lekhar byapti te we became wet (banglata bole deben...khuje pai ni)

    ReplyDelete
    Replies
    1. থাক😊. ইংরিজিই থাকুক না হয়।

      Delete
  12. জাস্ট ছবিগুলো দেখলাম। পুরো উড়ে গেলাম। এবার লেখা পড়ি।
    একটা জিজ্ঞাস্য আছে, ট্রেন ছাড়া কি উপায় যাওয়ার একবার বলবেন প্লিজ?? মানে আমাদের হাতে সময় বড় কম থাকে। তাই লেট ট্রেন ছাড়া প্লেন এর অপশন থাকলে সিরিয়াসলি ভাববো।

    ReplyDelete
    Replies
    1. দিল্লী ফ্লাই করে দিল্লী থেকে হরিদ্বার যাওয়া যেতেই পারে। কিন্তু সময় খুব যে বাঁচে তা মনে হয়না।

      Delete
  13. এবার লেখা সমেত পড়লাম। যাওয়ার জন্য বড় লোভ লাগছে।

    ReplyDelete
    Replies
    1. চলুন। আমি তো শীত পেরোলেই আবার যাব।

      Delete
  14. অসাধারণ সব ছবি ।

    ReplyDelete
  15. প্রথম ঝাঁকের জংলা ফুল, স্বর্গীয়।

    ReplyDelete

পোথি পথিকরা (The bird travellers) - ১৯

কিছু ছবি তাড়াহুড়োয় দেখানো হয়নি, এখন দেখিয়ে নিই। এ পাখিটি পাহাড়ে খুবই সহজলভ্য। কিছু কিছু জায়গায়, যেমন কুমায়ুনের ‘ধওলছিনা’য় চড়াইয়ের...