Friday, 20 April 2018

পোথি পথিকরা – ৬


পোথি পথিকরা


খুব বাঁচা বেঁচে গেছি

একটা আভাস বোধহয় দিয়েছিলাম প্রথম বা দ্বিতীয় পর্বে এখনও ভাবলেই কেমন যেন অনুভূতি হচ্ছে আমার নিজের হয়ত হাত পা ভাঙা ছাড়া খুব বড় কিছু হতোনা, কিন্তু আমাদের মধ্যে অম্লানের পেশেন্টদের অন্য ডাক্তার খুঁজতে হতো ব্যাপারটা বিশদে বলার আগে, খানিক অন্য কথা বলি, খুব কাছ থেকে কয়েকটা অ্যাক্সিডেন্ট দেখার দুর্ভাগ্য আমার হয়েছে কোনওটাই ফেটাল নয়, হলে কি আর এই ব্লগ লিখতে পারতাম? প্রথমটা সম্ভবত ১৯৭৯ সালে, ডালহাউসি স্কোয়্যারে অফিস যাচ্ছি, টেলিফোন এক্সচেঞ্জের আগের মোড়টা ঘুরেই ড্রাইভার কন্ডাক্টরকে ডেকে কী যেন বলল তারপর ছেলেটা গেটের কাছে ঝুলে তারস্বরে চেঁচাচ্ছে, ‘সরে যান, সরে যান দাদা, গাড়ি ব্রেক ফেল করেছে’ – কিন্তু ওপরওয়ালা তার গলায় ব্যাঙ ঢুকিয়ে রেখেছেন একে তো লতা মঙ্গেশকারীয় গলা, তায় পাশের লোক শুনতে পাবেনা যতই চেঁচাক ড্রাইভারও বুঝেছে তক্ষুণি কিছু করা দরকার কলকাতায় আগে ঘোড়ার গাড়ি চলত তা উঠে গেছে বহুকাল, তবু আশির দশকেও কিছু কিছু পথের ধারে তাদের জল খাবার বাথটবের মতো পাত্র আর ঘোড়ার লাগাম বাঁধবার লোহার স্ট্যান্ডগুলো ছিল পিএমজি অফিসের পাশে তেমনই এক স্ট্যান্ডে গিয়ে গাড়ি ভেড়ালেন ড্রাইভার ফুটপাথে সটান তুলে দিয়ে আমি অনেকক্ষণ আগে বুঝেছিলাম, তাই শরীর থেকে যতটা পারি দূরে হাত ছড়িয়ে সামনের সীটের পেছনটা শক্ত করে ধরে ছিলাম কিন্তু ইনারশিয়া অফ মোশন তা শুনলে তো যাই হোক, আমি চোট পেলেও বাকিদের মত ফেটেফুটে বা ভেঙেটেঙে যায়নি


আর একবার, তাও ওই আশির দশকেই একটা অটো চেপে যাচ্ছি বালিগঞ্জ বাড়ির সামনে থেকেই ধরেছি অটোটা পেছনে জায়গা ছিলনা তাই ড্রাইভারের পাশে বসেছি পঞ্চাশ গজও যাইনি, দেখি সামনে একটা লরি অনেকক্ষণ থেকে দাঁড়িয়ে ছিল তার পেছনের ডালা ছাপিয়ে অনেকদূর পর্যন্ত বেরিয়ে আছে বোঝাই করা শালবল্লা তাদের মুখগুলো বল্লমের ফলার মত কেটে সূচালো করা পোলগুলো আবার সমান নয়, ছোটবড় দেখি আমাদের অটোটা বেরিয়ে থাকা একটা পোলের দিকে স্থিরগতিতে এগিয়ে চলেছে যত এগোচ্ছে, আমি ভাবছি ড্রাইভার শেষ মুহূর্তে ঘোরাবে হয়ত, কায়দা মারছে কিন্তু সে ঘোরায়নি অটোটা সোজা গিয়ে মারল ওই লরির পেছনে সামনের কাচ ভেঙে চুরমার মারাত্মক সূচালো বল্লাটা ড্রাইভার আর আমার ঠিক মাঝখান দিয়ে কান ঘেঁষে ঢুকে গেল বেঁচে আছি, তা বুঝতে খানিক সময় গেল ড্রাইভার কেমন যেন জম্বির মতো বসে ছিল বললাম কী ভাই, দেখতে পাননি ওটা? সে বলল, হ্যাঁ দেখলাম তো সমানে এগিয়ে যাচ্ছি, তাও বুঝলাম, কিন্তু কী যে হলো


আর একবার অফিসের কাজে ভূবনেশ্বর যাব, রাতের ট্রেন, নটা কতোতে যেন ক্লায়েন্টের অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার শান্তনু ভট্টাচার্য এসেছে গাড়ি নিয়ে খালি বলছে স্যর উঠুন এবার, কত কাজ করবেন? আমি বলি, দাঁড়াও না হে, রডন স্ট্রীট থেকে হাওড়া মিনিট কুড়ি লাগবে বড়জোর তাও রাতে রাস্তা ফাঁকা ভাগ্যিস শান্তনু তাড়া দিয়ে আমায় তুলেছিল পোনে আটটা নাগাদ জিপিও পেরিয়ে খানিক গিয়ে দেখি এমন জ্যামে ফাঁসলাম, তা খোলার কোনও উপায় নেই ট্র্যাফিক পুলিস বাড়ি চলে গেছে এবার ফ্রি ফর অল কোন গাড়ির নাক ঢুকেছে কোন গাড়ির পেটের কাছে, পুরো ক্রিসক্রস এমনই অবস্থা, কেউ এগোতেও পারছেনা, পেছোতেও না ঘড়ির কাঁটা টিকটকাচ্ছে নিজের নিয়মে কী করে সেখান থেকে বেরোলাম তা অন্য গল্পে বলা যাবে কিন্তু ড্রাইভারটা ভোম্বল হয়ে গেল এই টেনশনে তখন ট্রেন ছাড়তে মাত্র কয়েক মিনিট বাকি নতুন স্টেশনে ঢোকবার অন্তত একশ গজ আগে ঝলমলে আলোয় দেখা যাচ্ছে কাটা রেল লাইন খাড়া করে একটা ডিভাইডার বানিয়েছে তাতে আবার লাল-সাদা রঙ করেছে ফ্লুওরোসেন্ট এক মাইল দূর থেকে মিস করবার চান্স নেই গাড়িটা সোজা সেটার দিকে যাচ্ছে এবারও আমি ভাবছি লাস্ট মিনিটে ঘোরাবে বোধহয়, কিন্তু ঘোরায়নি আমি ছিটকে পড়লাম সামনের সিটের পেছনে শান্তনু বেঁটে মানুষ, জাস্ট উড়ে গেল সিট ফিট টপকে উইন্ডশিল্ডের ওপর ড্রাইভার ভালরকম ইনজিওরড, তাকে হাসপাতালে পাঠানো হলো শান্তনু উড়ে গেছিল কিন্তু তার চশমা ছিটকে যাওয়া ছাড়া বিশেষ কিছু হয়নি সে ড্রাইভারের সঙ্গে আমাকেও হাসপাতাল পাঠাচ্ছিল, আমি বললাম অ্যাই, সোজা ট্রেনে ওঠো আর তিন মিনিট আছে খুবই চোট পেয়েছিলাম কিন্তু জেদ করেই গেলাম কাজটা ঠিক হয়নি তা অনেক পরে বোঝা গেছিল

যাই হোক, এই সব হয়েই থাকে, আর শেষ পর্যন্ত বেঁচেও যাই অনেক এমন গল্প আছে, সব বলা যাবেনা আমাদের গাড়িটার ড্রাইভার জানত ট্রেন রাত তিনটেয় পৌঁছবে সেই হিসেবে জেগে বসে ছিল নিশ্চয় গাঢ়ওয়ালের রাস্তাগুলো এমনিতেই অনেক কম ইনক্লিনেশনের সব পাহাড়ে ওঠার রাস্তা এক হয়না কোথাও কোথাও ফার্স্ট গিয়ারে গোঁ গোঁ করে উঠতে হয় এত খাড়াই আবার কোথাও হেয়ারপিন বেন্ড, অনেক সামলে চালাতে হয় পাহাড়ে বাঁক আছে বিস্তর কিন্তু আগেই বললাম ইনক্লিনেশন বা ঢাল খুবই কম, তাই বেশ জোরেই চলে গাড়ি তার ওপর পাহাড় কেটেকুটে রাস্তা চওড়া করে আরও গতি বাড়ানোর ব্যবস্থা হয়েছে স্পষ্ট দেখলাম উল্টোদিক থেকে ভীম গতিতে একটা খয়েরি রঙের একটু বড় গাড়ি আসছে, ট্রাক মনে হয় আমিও ভাবছি আমাদের ড্রাইভার গাড়ি ঘোড়াবে, ঘোরাবে, এই ঘোরালহ্যাঁ ঘোরাল ঠিকই, একেবারে শেষ মুহূর্তের ভগ্নাংশে ইঞ্চিখানেক ফারাক ছিল দুটো গাড়ির মধ্যে পাশ থেকে গাড়িটার ড্রাইভারের আতঙ্কিত অশ্রাব্য খিস্তি শোনা গেল পাহাড়ে এমন খিস্তি নেহাত দায়ে না পড়লে কেউ দেয়না আমাদের গাড়িটা ভেতরের দিকে ছিল, তাই উড়ে গিয়ে খাদে পড়তনা কিন্তু দুটো গাড়িরই গতি ছিল সাংঘাতিক যেখানে ইমপ্যাক্টটা আর একটু হলেই হতো, সেখানে অম্লান বসেছিল সে বললও খানিক পরে, যে লাগলে আমি আজ

যেটা কেউ দেখেনি, শুধু আমি ছাড়া, কারণ আমি সামনে বসেছিলাম ড্রাইভারের পাশে, ড্রাইভার স্টিয়ারিঙে এক হাত রেখেই চোখ রগড়ে নিল অন্য হাতে আমি বললাম, ‘কেয়া আঁখ লগ গয়া?’ সে সঙ্কোচে মাথা নাড়ল রাত জেগেছে, তার ওপর বৃষ্টি পড়েছে, ঠান্ডা হাওয়া চোখ লেগে যেতেই পারে ওটা মিনিটখানেক আগেও বোঝা যায়না আমি খুব ভাল করে জানি

কতই তো পড়ি খবরের কাগজে গায়ক কালিকাপ্রসাদের ড্রাইভারেরও চোখ বুজে এসেছিল আগের রাতে জেগে ডিউটি করেছিল নাকি আমাদের দেশে এমন আইন কেন নেই যে এই সব ড্রাইভারদের যারা গাড়ি দিয়ে জোর করে পাঠায়, সেই মালিকদের ন্যূনতম দশ বছর ভিত্তর হবে? আর একটা কালিকাপ্রসাদ পাব আমরা? আমিও একবার এইরকম রাতজাগা ড্রাইভারের পাশে সামনের সীটে বসেছিলাম তাকে জেরা করে জেনেছিলাম বাইরের দিকে তাকাইনি, কাঁটা হয়ে বসেছিলাম তার পাশ ঘেঁষে, সামান্য ঝুঁকতে দেখলেই স্টিয়ারিংটা অন্ততযাকগে আমাদের ড্রাইভারের অবশ্য রাত জাগার অপরাধ নেই অপরাধ রেল নিয়ন্ত্রকের শুনলাম উপাসনার মতো একদা দারুণ ভাল ট্রেন এখন বারো চোদ্দ ঘন্টা লেট নাকি নিত্যকার ব্যাপার

যাবার পথে নানারকম নয়নমনোহর দৃশ্য দেখেছি তুলতে পারিনি কারণ এক, ড্রাইভার আমাদের পরিচিত কুমায়ুনের দীনেশ নয় একে দাঁড় করানো বেশ চাপের ব্যাপার তা ছাড়া অন্য অন্তরায় ছিল আগেই শোনা ছিল, এখানে এখন পাহাড় কেটে রাস্তা চওড়া করা হচ্ছে কী যে সর্বনাশ হচ্ছে, তা আগেও লিখেছি, পরে আবার বলব সময় সুযোগে তাই কিছু দূর পর পরই গাড়িকে আটকে দেওয়া হচ্ছিল, যতক্ষণ না আর্থমুভার গুলো সরে যায় আজকাল যন্ত্রগুলোকে জেসিবি বলা হয় কেন বলা হয় কে জানে আসলে ওটা সম্ভবত প্রস্তুতকারক সংস্থার নাম অনেকটা ছোট ট্রাককেম্যাটাডরবলার মতো

যাই হোক, আমরা খানিক দূর দূর গিয়েই দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছি, কোথাও পাঁচ মিনিট, কোথাও দশ আর গতিও ব্যহত হচ্ছে বেশ পৌঁছতে রাত হয়ে যাবে যখন আমাদের গন্তব্যে পৌঁছতে আর ৩৬ কিলোমিটার মাত্র বাকি এক জায়গায় হাত দেখিয়ে গাড়ি থামিয়ে এক পুলিশ দৌড়ে এলেন এমন পুলিশও আমাদের কলিকাতায় নাই যিনি নাকি গাড়ি থামিয়ে আবার ব্যাখ্যা করছেন, কেন থামালেন তাঁর মুখেই দুঃসংবাদটা শুনলাম এই যে তড়িঘড়ি পাহাড় কাটা হচ্ছে কোনও বন্দোবস্ত ছাড়াই, তার ফলে প্রাণ গেছে দুই যুবকের বিশাল ধ্বস নেমে তারা চাপা পড়েছে খানিক দূরে এত বিশাল সেই পাথর মাটির ঢিবি, যে মেশিন এনে সরিয়েও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি সে রাস্তা বন্ধ তাই আবার চল্লিশ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হবে

আমি যে এই গাঢ়ওয়ালের পরিবেশের সুখ্যাতি করছিলাম, তা কুমায়ুনের সঙ্গে তুলনা করে কুমায়ুনে আমি বেশ কয়েক দশক ধরে অনেকবার এসেছি, তাই পরিবর্তনটা চোখে পড়েছে কিন্তু গাঢ়ওয়ালে তো আগে আসিনি যে বিশ্বজিত মুখার্জি আমাদের দলে আছে এই সফরে, তার বোন রাণু আমায় লিখে পাঠাল,
প্রথম গাঢ়ওয়াল যাই ১৯৯২ সালে সত্যিই ভাগ্য ভাল যে তখন গেছিলাম ২০০৯ তে বদ্রিবিশাল আর হেমকুণ্ডসাহেব যাই বদ্রিবিশালকে তো সমতল বানিয়েছে আর যেখানে সেখানে জলবিদ্যুতের জন্য ড্যাম বানিয়েছে, রাস্তা ফাটাচ্ছে মন খারাপ হয়ে গেল আপনারা একটু অপরিচিত জায়গায় গেছেন তাই ভালো নেচার পেয়েছেন
কথাটা একেবারেই সত্যি কুমায়ুনে যা হচ্ছে, সিকিমে যা হচ্ছে, চতুর্দিকে যা হচ্ছে, গাঢ়ওয়াল তার ব্যতিক্রম হয় কী করে!
সন্ধের পরে আমরা এসে পৌঁছলামসারিগাঁও এটা দেওরিয়া তাল যাবার জন্য একটা ছোট্ট জনপদ আজই দেওরিয়া তালের প্রোগ্রাম ছিল কিন্তু একটা বেলা বাদ হয়ে গেল সফর থেকে সেটা কাল হবে ছোট হোটেলটি নাম,
Anjali Tourist Lodge & Restaurant (Devriyatal) (কোনও বানান ভুল নেই আশ্চর্য! কেন আশ্চর্য তা পরে বলছি)
Prop Raghuveer Negi, ph 9627001416 , 9410188800

যদিও মালিকের নাম রঘুবীর নেগি, যে ছেলেটি দেখাশোনা করে, তার নাম বীরভদ্র সিং নেগি খুব সহজ সরল হাসিমুখ ছেলে তার একটা ছোট্ট দোকানও আছে ওই লজের রান্নাঘর লাগোয়া গ্রসারি অ্যান্ড কনফেকশনারি আর ওর বৌ রান্নাবান্না করে বেশি কিছু না, ডালটা বেজায় ভাল রাঁধে, আলু সেদ্ধ করে কিছু মশলা দিয়ে নেড়ে চেড়ে একটা পদ, বললে চিকেন টিকেনও করে দেয় ঘরদোর আমাদের মধ্যবিত্ত চোখে বেশ ভালই

কিচ্ছু করবনা, দুদিন স্রেফ বসে থাকব গিয়ে, এমন মানসিকতা নিয়ে গেলে আদর্শ জায়গা আমায় কেউ সুযোগ দিলে অবশ্যই আবার যাব একা তো আর যেতে পারিনে আর মার্চ মাসের মধ্যে যেতে পারলে পাখিবাজদের জন্য সুখবর আছে বলছি পরে

আজ বিশেষ ছবি নেই, কাল অনেক দেব
প্রথম ছবি, যাত্রাপথে ইয়র্স ট্রুলি, (তুলেছেন বিশ্বজিত মুখার্জি)


দ্বিতীয় ছবি, সারিগাঁওয়ের রাস্তা

(চলবে)

16 comments:

  1. একচুলের জন্য দুটো গাড়ির ধাক্কা হয় নি।শেষ মুহূর্তে কপালজোরে।আমি আপনার পিছনেই ছিলাম,দেখেছিলাম গাড়ি আসছে।ভেবেছিলাম দীনেশ ও বুঝি দেখেছে।যাইহোক।আর গন্তব্যের 36 কিমি আগে নয়।ওটা ছিল রুদ্রপ্রয়াগ যাবার সোজা রাস্তা।যেটা ওই দুর্ঘটনার জন্য পাউড়ি হয়ে ঘুরে যেতে হলো।পাউড়ির রাস্তাটা বেশ ভালো,সুন্দর লাগলো।রাস্তার ধারে পাখিও বেশ আছে।যেখানে চাকা পাংকচার হলো সেখানে তো ভালোই দেখলাম।ছবিও নিয়েছি। সারি গ্রামটি অতীব সুন্দর লেগেছে আমার।ওখানে আবার যাওয়া যেতেই পারে। আপনার লেখাতে একটু একটু করে পট উন্মোচিত হচ্ছে।খুব সুন্দর।

    ReplyDelete
    Replies
    1. দীনেশ নয়, ওর নাম মুকেশ। ৩৬ কিমি বাকি ছিল আমাদেরই কে যেন বলল। আমি কি ওদিকের কিছু চিনি?

      Delete
    2. হ্যাঁ দাদা,মুকেশ

      Delete
  2. গত মার্চে আমরা চারজন সারি-দেওরিয়াতাল হয়ে হেঁটে চোপতা-তুঙ্গনাথ গিয়েছিলাম। সারিগ্রাম এবং যেগ্রামে শীতকালে তুঙ্গনাথ নেমে আসেন তার সৌন্দর্য সত্যি অপরূপ।
    সারিগ্রামে সে সময় ক্ষেতে গম চাষ হয়েছিল। গ্রামের শেষপ্রান্তে স্কুলটিও খুব সুন্দর। প্রতি বাড়িতেই গোয়াল আছে। প্রতিদিন দুধ জোশিমঠ এ চলে যায়।

    পাহাড় ভেঙ্গে চারধাম যাওয়ার রাস্তা চওড়া করার ব্যাপার টা আমারও খারাপ লেগেছে। ফেরার সময় দুটি আর্থমুভারের কংকাল দেখেছি। ওপর থেকে পাথর পরে প্রায় গুঁড়িয়ে গেছে। শুনেছি চালকদের গুরুতর আহত হওয়ার খবর। যেভাবে পাহাড় কেটে রাস্তা চওড়া হচ্ছে তাতে করে এই বর্ষা বা তার পরে বড় দুর্ঘটনা ঘটা অস্বাভাবিক না। আর সেজন্য আগামী দুই বৎসর গাড়য়াল যাব না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

    ReplyDelete
  3. কিছু মানুষের(পড়ুন একটি মানুষের) খামখেয়ালিপনার মাশুল একটা গোটা অঞ্চলের প্রকৃতি। আমরা আসিফার ধর্ষণ নিয়ে অবশ্যই চিৎকার করব। কিন্তু প্রকৃতির উপর্যুপরি গণধর্ষণে কারোর মাথাব্যথা নেই? কেদারে আর একবার হোক।

    ReplyDelete
  4. J.C. Bamford aka JCB is indeed the name of the dominant company in the earth moving equipment category.

    ReplyDelete
    Replies
    1. তাই মনে হলো। সেই ডেটল, মবিল, হারিকেন, এদের মতই

      Delete
  5. বাপরে কী ভয়ংকর অবস্থা। ঐরকম জায়গায় মুখোমুখি ধাক্কা...চিন্তাই করা যাচ্ছে না। ছবিদুটো খুব সুন্দর।

    ReplyDelete
  6. মুখোমুখি ঠিক নয়, একজনের মুখ, অন্যজনের পেট। খুবই ভয়ঙ্কর অবস্থা হতে যাচ্ছিল। মুহূর্তের মধ্যে সামলেছে। রাত জাগলে চোখ লেগে যেতেই পারে।

    ReplyDelete
  7. সাপ্তাহিক ছুটির দিন ..... পড়তে একটু দেরি হয়ে গেলো .... তাই মন্তব্যও দেরিতে .... বিশেষ কিছু বলার নেই অবশ্য ..... ভালো থাকুন .... সুস্থ থাকুন ... আমাদের সাথে থাকুন ....

    ReplyDelete
  8. থ্যাঙ্কিউ

    ReplyDelete
  9. এইরকম একবার আমারও হয়েছিল। পেলিং যাওয়ার পথে। ধ্বসে আটকে গেছিলাম। তারপর রাস্তা খুলল অনেক রাতে। পুরো ঘুমিয়ে গেছিল ছেলেটা। গাড়িটা নদীতে পড়ত শতিনেক ফিট নিচে। ভাগ্যিস জেগে ছিলাম।

    ReplyDelete
  10. পড়ছি। কি সব সাংঘাতিক অভিজ্ঞতা হয় আপনার! ভালোয় ভালোয় হোক সবটা। পড়ি।

    ReplyDelete
    Replies
    1. নানা রকম অভিজ্ঞতা আছে ঝুলিতে। সময় পেলে পুরনো গুলো আপলোড করব।

      Delete
  11. Replies
    1. সত্যিই অপূর্ব।

      Delete

পোথি পথিকরা (The bird travellers) - ১৯

কিছু ছবি তাড়াহুড়োয় দেখানো হয়নি, এখন দেখিয়ে নিই। এ পাখিটি পাহাড়ে খুবই সহজলভ্য। কিছু কিছু জায়গায়, যেমন কুমায়ুনের ‘ধওলছিনা’য় চড়াইয়ের...