পোথি পথিকরা - ৯
আগের পর্বে স্বর্ণভাণ্ডারে হাত লাগার কথা বলেছিলাম। একটি ছবিও দিয়েছিলাম। কাছ
থেকে দেখাই তাকে আবার। আমার পাখিটির নাম মুখস্থ ছিলনা, তবে ফিঞ্চ গোত্রের তা ঠাওর
করেছিলাম। আস্তানায় ফিরে অম্লান্রের ট্যাবে লোড করা গ্রিমেটের কেতাব খুলে দেখি, এর
নাম ‘রেড ফ্রন্টেড সেরিন’। একে নিয়ে তুমুল হৈ চৈ চালু হতে বুঝলাম, এর খোঁজ আগে এমন
ভাবে কেউ পায়নি এখানে। একটু বড় করে দেখাই এর চেহারা।
সেই নেপালি মানুষটি ফিরে যাচ্ছে। আমিও হনহনিয়ে হেঁটে তার পেছন ধরলাম। কারণ,
ভিক্ষে যা পাবার পেয়ে গেছি, এবার কুকুর সামলাবে কে! আমি ওখান থেকে চলে আসাতে লাভ
হলো, না থাকলে লাভ ছিল জানিনা, তবে কিছু পাখির সন্ধান তো পেলাম।
প্রথমে দেখাব এমন এক পাখি, যা অত্যন্ত সহজলভ্য হয়ে গেছে আজকাল। আজ থেকে দশ বছর
আগেও পাহাড়ে না গেলে এ পাখির দেখা মিলতনা খুব একটা। এখন শীতে কলকাতা তো ছেড়েই
দিলাম, আমাদের রবীন্দ্র সরোবরেও থাকে, প্রান্তিক দক্ষিণে, একেবারে ফ্রেজারগঞ্জ
হেনরিজ আইল্যান্ডেও এ পাখি দেখেছি আমি। অবশ্য কেতাবি খতিয়ানে গোটা পশ্চিমবঙ্গে ও কেরালা
হচ্ছে এদের শীতকালীন পরিযান ক্ষেত্র। গ্রীষ্মে উঠে আসে হিমালয়ে। এখন হিসেবমতো
গ্রীষ্ম শুরু হয়ে গেছে, তাই এরা এখানে। ইংরিজি নাম ভার্ডিটার ফ্লাইক্যাচার, বাংলায়
‘নীল কটকটিয়া’। এর ছবি তলার পেছনে এক মজার কাহিনী। আমার ক্যানন ক্যামেরা, বেশি নীল
রঙ হলে এ ঠিকমট ফোকাস করতে পারেনা। বৈজ্ঞানিক যুক্তি কী আছে জানিনা, তবে এটা
হকিকৎ। একটু পরেই আমি দেখাব, একটি পুরুষ পাখি, যে বেশি নীল, সম্পূর্ণ ফোকাল রিঙের
মধ্যে থেকেও ফোকাসিত নয়, অন্যদিকে পাশেই স্ত্রী পাখি, যে একটু কম নীল, একেবারে আঁশ
শুদ্ধু ফোকাসড। যাই হোক, এই ছবিটি পাখির জন্য নয়, সে পাখি দেখাব পরে। এই একটি
ফ্রেম, ফোটোগ্রাফিক ফ্রেম। হয়ত কারও ভাল লাগবে, তাই দেওয়া। পাখিটি উপলক্ষ্য মাত্র।
আর একটু এগিয়ে যেতেই এমন এক পাখি পেলাম, যা আমার সংগ্রহে ছিলনা আগে, যদিও খুব
দুর্লভ নয়। এর নাম ‘পিঙ্ক ব্রাওড রোজফিঞ্চ’। প্রসঙ্গত, রোজফিঞ্চ (rosefinch) পাখিটি পাহাড়ে অনেক জায়গাতেই পাওয়া যায়, তবে তা কমন রোজফিঞ্চ। তাদের নানা
ভাগ-উপভাগ আছে। এই পিঙ্ক ব্রাওড রোজফিঞ্চ বা গোলাপি ভুরুওয়ালা রোজফিঞ্চের ছবি আমি
আগে তুলতে পারিনি। নীচের ছবিটি মেল অর্থাৎ পুরুষের।
এর পরের ছবিটি এই প্রজাতির রোজফিঞ্চের স্ত্রী পাখির।
এর পরে যাকে পেলাম, তাকে শীতকাল এলেই মাঠেঘাটে সর্বত্র দেখতে পাওয়া যায়,
বিশেষত শুকনো কাঁটাঝোপ বা বেড়ার ওপরে। এটি কমন স্টোনচ্যাটের স্ত্রী পাখি। গ্রীষ্মে
এরা হিমালয়ে পরিযান করে। তবে একটা ক্ষীণ সম্ভাবনা আছে, এর হোয়াইট টেলড
স্টোনচ্যাটের স্ত্রী পাখি হবার। এর বেশ কিছু ছবি নিলেও ওপর থেকে লেজ দেখতে পাইনি।
তাই একটা বেনিফিট অফ ডাউট রেখেই ছবিটা নিচ্ছি এখানে।
এর পরের পাখিও পাহাড়ে খুবই সহজলভ্য। দুটি প্রজাতি আছে। ইয়েলো বিলড আর রেড বিলড
ব্লু ম্যাগপাই। এটি ইয়েলো বিলড। এও এক মজার পাখি, ফোটোগ্রাফারদের কাছে হাজার ছবি
থাকলেও এলে পেলে কেউ ছাড়েনা। আমিও ছাড়িনি।
সেই মাইগ্র্যান্ট নেপালি মজুররা খচ্চরের পিঠে বোঝা চাপিয়ে পাহাড়ে উঠছেন। এই
পাহাড়ের মাথাতেই দেওরিয়াতাল। হয়ত পাথর বাঁধানো রাস্তার জন্যই পাথরের টুকরো টেনে
নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এখানে মজুরের খাটনি সমতলের চেয়ে অনেক বেশি। তাই মজুরিও বেশি।
এর পরে আর এক পাখি দেখাই, খুব মজার পাখি, এর নাম ‘ব্ল্যাক বুলবুল’। আখতারি
বাঈয়ের গান মনে আছে? ‘ফিরে যা ফিরে যা বনে, কালো বুলবুল’! অথচ সেই সাধারণ বুলবুল
দেখতে কালো হলেও এই পাখির নাম রাখা হয়েছে ‘ব্ল্যাক বুলবুল’। আসলে এর শরীর কালো নয়,
শুধু মাথার সামান্য অংশ কালো। আমাদের বাংলার পাহাড়ে, মহানন্দা স্যাংচুয়ারিতে এদের
ঝাঁকে ঝাঁকে দেখা যায়। এখানেই মাত্র দুই একটা।
আরও অনেক পাখি আর ঘটনার সম্ভার নিয়ে আসছি পরের পর্বগুলোতে।
(চলবে)








বাঃ,দিব্যি চলছে। পাখিগুলো কী সুন্দর।
ReplyDeleteধন্যবাদ।
ReplyDeleteআহা, কী সুন্দর সব পাখির ছবি। আর ফ্রেমটা কিন্তু দারুণ!
ReplyDeleteহাতির শুঁড়ের ওপর পাখি বসে মনে হচ্ছে না? দাঁতও আছে
ReplyDeleteএকদম তাই। আরেকবার ভালো করে দেখলাম।
Deleteদারুণ সুন্দর সব ছবি, দেখে যাওয়ার লোভ হচ্ছে ❤❤❤
ReplyDeleteআর এক বার ঘুরে এসো।
DeleteEta kintu khub bhalo hayeche ami apnar blog peye khub anondo peyechi. Akhon lekhagulo porpor aro bhalo porte parchi. Ekei bodhay bole ja hay bhalor janyei hay.
ReplyDeleteহ্যাঁ, আমারও তাই মনে হলো। যা হয় ভালর জন্যই হয়।
Deleteব্লগের আইডিয়াটাই বেষ্ট মনে হচ্ছে এবার। ছবির রেজলিউশন কোয়ালিটি কিছুই মার খাচ্ছেনা মনে হয়। না?
ReplyDeleteএকদমই। ফেসবুকেই বরং খানিক কমিয়ে দেওয়া হয় রেজলিউশন। এখানে একেবারেই ঠিকঠাক।
Deleteঅনবদ্য অ্যালবাম। প্রকৃতির সম্পদগুলো চোখের সামনে। তেমনি সুন্দর এপিসোড।
ReplyDeleteএইমাত্র গুগল অ্যাকাউন্ট খুলতে পেরেছি।
ReplyDeleteবাহ
ReplyDeleteদাদা ব্লগ খুলেই ভালো হোল। দারুণ সুন্দর ছবিগুলো।
ReplyDeleteথ্যাঙ্কিউ।
ReplyDeleteএইতো, অনেকেই চলে আসছেন একে একে। পাখি, মানুষ সব।
ReplyDeleteসুপার সুপার ছবি। জুম করে নীল পাখিটা দেখলাম, আর গোলাপি মেল রোজ ফিঞ্চ। ব্যাপক। ভারী ভালো লাগছে।
ReplyDeleteধন্যবাদ।
Deleteমুগ্ধ।
ReplyDeleteথ্যাঙ্কিউ।
Delete